রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৯

আহ্বায়ক ইমাম হোসাইন, উপদেষ্টা বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম

সহিংসতা ও উগ্রবাদ রোধে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’-এর আত্মপ্রকাশ

সহিংসতা ও উগ্রবাদ রোধে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’-এর আত্মপ্রকাশ
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সমাজে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা, বিদ্বেষ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও অসাম্প্রদায়িক সামাজিক সংগঠন ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। ৬০টি সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দায়িত্বশীল নাগরিকদের সম্মতিক্রমে বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমকে আহ্বায়ক করে এ প্ল্যাটফর্মটির যাত্রা শুরু হলো।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক প্রতিনিধিত্বশীল নাগরিক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি এবং একটি উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষণা করেন সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী।

‘আর নয় বিদ্বেষ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে গঠিত এ সংগঠনে যুক্ত হয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী, বিচারক, আইনজীবী, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতা ও পীর-মাশায়েখরা।

গঠিত উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক বিচারপতি এমদাদুল হক আজাদ, দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আজিজ।

ডা. মাহবুব আলম মাহফুজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নবগঠিত সংগঠনের আহ্বায়ক ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম সমাজে উগ্রবাদের বিস্তারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ কোনো একক ধর্ম বা গোষ্ঠীর নয়; এটি বহু জাতিসত্তা, ধর্ম ও সংস্কৃতির দীর্ঘ সহাবস্থানের এক সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার। কিন্তু বর্তমানে ধর্মের নামে সুফি মাজার, দরগাহ ও খানকায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে, ভাস্কর্য ও ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর করা হচ্ছে। এমন চরমপন্থা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিল্পকলা ও গণমাধ্যম কার্যালয়ও রক্ষা পাচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “রাজধানী ঢাকা এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অনিরাপদ শহরে পরিণত হয়েছে, যা মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, স্বাধীন মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে নীরব না থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”

অনুষ্ঠানে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফি রতন, সাবেক সচিব কাসেম মাসুদ, মওলানা ভাসানীর পুত্রবধূ পারভীন নাসের খান ভাসানী, ড. জমিরুল আকতার, বাউল শিল্পী লতিফ সরকার, মানবাধিকার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শ্রী মনীন্দ্র কুমার নাথ, মুসলিম লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন রশীদ এবং বাউল শিল্পী ফকির আবুল সরকার।

বক্তারা বলেন, বৈচিত্র্যময় এই দেশে সব নাগরিকের সমান অধিকার, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই এখন সময়ের প্রধান দাবি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়