বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ০০:৫১

দখল ও দূষণে বিলুপ্তির পথে রহিমানাগর বাজারের প্রবহমান খাল

মো. নাছির উদ্দিন
দখল ও দূষণে বিলুপ্তির পথে রহিমানাগর বাজারের প্রবহমান খাল
ছবি : রহিমানাগর বাজারের প্রবহমান খালটি অবৈধ দখল ও দূষণে মরা খালে পরিণত হয়েছে।

দখল ও দূষণে বিলুপ্তির পথে রয়েছে কচুয়া উপজেলার প্রসিদ্ধ রহিমানাগর বাজারের প্রবহমান খালটি। স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে দখল করে নিয়েছে খালটির দু পাশ। বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে খালটি। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগবালাই, নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য, বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। ঠিকমত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই পুরো খাল দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শত বছরের পুরোনো এ খালের দু পাশে কেউ নির্মাণ করেছেন টিনের ঘর, খালের ওপর বহুতলা ভবন, কেউ আরসিসি পিলার ঢালাই করে তৈরি করেছে পাকা দোকান। খালজুড়ে যেন চলছে দখলের প্রতিযোগিতা। একের পর এক দখলে খালটি সংকুচিত হয়ে কোথাও সরু ড্রেনে পরিণত হয়েছে। আবার কোথাও খালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এক সময়ের ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু রহিমানগর বাজারের প্রবহমান ঐতিহাসিক খালটি দীর্ঘদিন ধরে দখল হতে হতে এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। কৃষিকাজেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কৃষকদের। দখলের পাশাপাশি পচা ময়লা-আবর্জনায় সবচেয়ে বেশি দূষিত হচ্ছে রহিমানাগর বাজারের মাংস বাজার, মুরগি বাজার, সবজি বাজার, পান-সুপারি বাজারসহ ব্রিজ এলাকা। বাজারের পচা ময়লা-আবর্জনা খালে ফেলায় পানি পচে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এতে স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিচ্ছে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ। খালের দু পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ দূষণ রোধে দ্রুত ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, রহিমানাগর বাজারের প্রবহমান খালটি বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে আমাদের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। বর্তমানে দখল ও দূষণে বিপর্যস্ত এই খাল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে খালটি খনন করা খুবই জরুরি। আমরা খালটি দ্রুত খননের দাবি জানাচ্ছি।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান রাসেল বলেন, উপজেলাজুড়ে খাল খননের জন্যে তালিকা করা হয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকল্পের আওতায় শিগগিরই খালগুলো পুনরায় খনন করা হবে।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়