শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬, ২৩:৫৬

চোর আতঙ্কে বাবুরহাট বাজার

দেড় মাসে দ্বিতীয় বড়ো চুরি, প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জোর দাবি

আব্দুল্লাহ আল মামুন।।
চোর আতঙ্কে বাবুরহাট বাজার
বাবুরহাটে বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজে চুরির ঘটনায় সদর থানা পুলিশের এএসআই আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন

চাঁদপুর শহরতলীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাবুরহাট বাজারে দিন দিন চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ গত ১৭ জুন ২০২৬ (বুধবার) দিবাগত রাতে বাজারের মতলব রোডস্থ বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজে সংঘটিত হয়েছে একটি দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা। চোরচক্র দোকানের পেছনের দেয়াল ভেঙ্গে নিচ দিয়ে প্রবেশ করে নগদ অর্থ ও মূল্যবান পণ্যসহ প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) সকালে দোকান খুলতে এসে ব্যবসায়ী মনির পাটোয়ারী দেখতে পান দোকানের পেছনের দেয়াল ভাঙ্গা এবং দোকানে রক্ষিত নগদ ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ও প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের মূল্যবান এলাচ চুরি হয়ে গেছে। পরে তিনি বিষয়টি বাবুরহাট বাজার কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন খান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পালোয়ান, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দোকানের পেছনের অংশে দেয়াল ভেঙ্গে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করেছে। দোকানে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় চোরদের শনাক্ত করার মতো কোনো ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

বাবুরহাট বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, বাবুরহাট বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপশহরে পরিণত হয়েছে। এখানে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস ও প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। মাদক ও চোরচক্রের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পূর্বেও চুরির ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে পুলিশের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

তিনি পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বর্তমান পুলিশ সুপারের কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও বাজার এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মনির পাটোয়ারী জানান, এই চুরির ঘটনায় আমার প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছি। আমি আশা করি, পুলিশ দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে মালামাল উদ্ধার করবে এবং দৃষ্টান্তমূলক

ব্যবস্থাগ্রহণ করবে।

বাবুরহাট বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী চন্দন দে বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে বাজারে নিরাপত্তার স্বার্থে ১৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিলো। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেগুলো এখন অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। সিসিটিভি ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা গেলে চুরি ও মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পালোয়ান বলেন, এর আগে চুরির ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ক'জন চিহ্নিত ব্যক্তি বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছে। তাদের মুক্তির পর থেকেই বাজারে চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

চুরির খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার এএসআই আলমগীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, চুরির ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা স্মরণ করিয়ে দেন, মাত্র দেড় মাস আগে বাবুরহাট মধ্যবাজারের সিটি ট্রেডার্স থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়। সে ঘটনার এখনও কোনো সুরাহা না হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মাইনুল ইসলাম মমিন পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চুরির ঘটনায় মাইনুল ইসলাম মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙ্গে পড়েছিলেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল মনে করছেন, বাবুরহাট বাজারে ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত চুরির ঘটনাগুলো শুধু ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতিই নয়, পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাই বাজার এলাকায় দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসিটিভি নেটওয়ার্ক পুনরায় চালু এবং একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়