শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৩

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তৃণমূল নেতার খোলা চিঠি

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তৃণমূল নেতার খোলা চিঠি

আমি একজন তৃণমূলের কর্মী হিসেবে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমাদের দল সরকার গঠন করেছে ৯ মাস হলো। এই দল সরকার গঠন করার পেছনে ১৭টি বছর রাস্তাঘাটে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, শীত-গরমের কষ্ট সহ্য করে, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের হামলার শিকার হয়ে, গুম-খুন, হত্যা, জেল-মামলা, পুলিশি হামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে লাখ লাখ নয়, কোটি কোটি ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের। এসব মানুষের কেবল একটাই চাওয়া ছিল—একদিন হাসিনার বিদায় হবে, আমরা মাথা উঁচু করে গর্বের সাথে শান্তিতে বসবাস করবো। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা এখন ভিন্ন রূপ নিতে চলেছে। নির্বাচনের পর থেকে আজ পর্যন্ত আমি যত জায়গায় গেলাম, যত সাধারণ কিংবা মধ্যম সারির নেতাকর্মীর সাথে কথা বললাম, এমনকি কোনো কোনো সময় আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেও উপলব্ধি করছি—এ দলের কর্মীরা ভালো নেই। তারা একবুক চাপা কষ্ট নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কর্মী-সমর্থকরা আপনার মন্ত্রী, এমপি কিংবা আপনার প্রটোকলে চারপাশে যারা আছেন, তাঁদের কাছে কোনো টাকা-পয়সা চায় না; তারা চায় একটু সম্মান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কর্মীরা ১৭ বছর এতো কষ্ট করেছেন, জেল-জুলুম খেটেছেন, না খেয়ে থেকেছেন, কিন্তু টাকায় বিক্রি হননি। আপনার কর্মীদের যদি টাকার নেশা থাকতো, তবে ১৭ বছরে তাদের সবার জীবনেই অন্তত একবার হলেও সুযোগ এসেছিল অন্য দলে গিয়ে টাকা কামানোর ও ক্ষমতার দাপট দেখানোর। তারা কিন্তু সেটি করেনি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার শত নয়, হাজারো কর্মী গুম-খুন হয়ে গেছেন; কিন্তু সারা বাংলাদেশে এমন একজন কর্মীও পাওয়া যাবে না, যিনি বিএনপিকে ছেড়ে, আমাদের প্রাণের নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া কিংবা আপনাকে ছেড়ে চলে গেছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি হয়তো জানেন না—আপনার মন্ত্রী-এমপি এবং প্রটোকলে থাকা অধিকাংশ ব্যক্তিই এখন 'সুশীল' হয়ে গেছেন। তাঁরা শুধুমাত্র আপনাকে খুশি করার জন্য লোকদেখানো পারফরম্যান্সে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাঁরা এতোটাই 'সুশীল' হয়ে গেছেন যে তাঁদের চালচলন দেখে মনে হচ্ছে তাঁরা অন্য কোনো গ্রহ থেকে কেবল মাত্র এই বাংলাদেশে পদার্পণ করেছেন! তাঁরা যে কর্মীদের ওপর ভর করে মন্ত্রী-এমপি কিংবা ভালো পজিশনে এসেছেন, সেটি তাঁরা ভুলেই গেছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার পরিষদের কিংবা আপনার সাথে থাকা অধিকাংশ মানুষই এখন নিজেদের সুশীল ভাবতে শুরু করেছেন। তাঁরা কর্মীদের ফোনকল রিসিভ করা তো দূরের কথা, সালামের উত্তরও ঠিকমতো দেন না; এমনকি তৃণমূল কর্মীদের রোদে পোড়া মেচেতা পরা মুখটার দিকে একবার তাকানও না। এটি খুবই কষ্টদায়ক, এটি মেনে নেওয়া যায় না। তাঁরা সবাই আপনার আশেপাশে থাকতে চান, কিন্তু কেউ কর্মীদের পাশে থাকতে চান না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অনেকেই বলতে শুরু করেছেন—আমরা এর চেয়ে বিরোধী দলেই ভালো ছিলাম; নেতাদের স্নেহ পেতাম, তাঁরা খোঁজ-খবর নিতেন, কল দিলে পাওয়া যেতো, সালাম দিলে উত্তর পেতাম। আর এখন এ কী হলো! এটি খুবই হতাশাজনক। আর এটি কতোটা মানসিক যন্ত্রণার এবং লজ্জার, তা কেউ কারও সাথে শেয়ার করতে পারছে না। মানসিকভাবে তাঁরা ভেঙে পড়েছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি হুমায়ুন কবির বেপারী কেবল আপনার দল বিএনপি করার কারণেই বহু মামলার মুখোমুখি হয়েছি, দীর্ঘ ১৭ বছর অমানবিক জীবনযাপন করেছি!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সাথে দীর্ঘ ১৭ বছর যারা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে আমিও ছিলাম। দল সরকারে আসার পর অনেকেই মূল্যায়িত হয়েছেন, কিন্তু আমি সেই আওয়ামী শাসনামলের মতোই বৈষম্যের শিকার হচ্ছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার তৃণমূল কর্মীরা আপনার দিকে তাকিয়ে আছেন। তাঁদের আশা ও ভরসার একমাত্র অভিভাবক আপনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এ দল ও সরকারকে সামনে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে; কিন্তু আমাদের উচ্চপর্যায় মনে হয় ভুলেই যাচ্ছে যে তাঁদের নিচে, তৃণমূলে এ দেশে কোটি কোটি দলীয় কর্মী-সমর্থক বাস করছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এ লেখাটি আমি কেবল আমার নিজের জন্য কিংবা নিজের হতাশা থেকে লিখিনি। এটাই চরম বাস্তবতা। আমার এই লেখা আপনার পর্যন্ত পৌঁছাবে কি না আমি জানি না; তবে আমার এই বার্তা যদি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, তবে আমার অনুরোধ—আপনি দলীয় বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে অথবা সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের একটু খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। আমি বিশ্বাস করি, এর মাধ্যমে আপনি আপনার দলের তৃণমূল কর্মীদের হতাশা এবং নীরব কান্নার আওয়াজ শুনতে পাবেন।

--হুমায়ুন কবির বেপারী

সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল, কেন্দ্রীয় কমিটি

চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোট,

সাবেক সদস্য, চাঁদপুর জেলা বিএনপি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়