শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০১

ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলোরে দুনিয়ায়

পিতৃব্য খাজা আবু তালিবের প্রতিপালনে

প্রসঙ্গ : নবুয়ত প্রকাশের পূর্বাভাস-ব্যবসা শুরু

অনলাইন ডেস্ক
পিতৃব্য খাজা আবু তালিবের প্রতিপালনে

খাজা আবদুল মুত্তালিব তাঁর মৃত্যুকালে বড় পুত্র আবু তালিবকে ডেকে নবী করীম [দ.]-এঁর লালন-পালনের দায়িত্ব তাঁর হাতে অর্পণ করেন। সে সময় থেকে ২৫ বৎসর বয়সকাল পর্যন্ত নবী করীম [দ.] ১৭ বৎসর আপন চাচার সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকেন। এ সময়ের মধ্যেই নবী করীম (দ.)-এঁর মানবীয় ও সামাজিক গুণাবলী প্রকাশ পেতে শুরু করে এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি সততা, ন্যায়পরতা ও আমানতদারীর গুণাবলী প্রদর্শন করে ‘আল-আমীন’ খেতাবে ভূষিত হন। আবু তালিব আপন ভাতিজাকে নিজের সন্তানের চেয়ে বেশী স্নেহ করতেন। নবী করীম [দ.]-কে ছাড়া তিনি কখনও আহার করতেননা। সকালের নাস্তা করার জন্য আবু তালিবের অন্যান্য সন্তানগণসহ একত্রে নাস্তা করতে বসলে বালকদের স্বভাব-সুলভ খানা নিয়ে কাড়াকাড়ি করার ঘটনা ঘটে যেতো। নবী করীম [দ.] তখন হাত গুটিয়ে বসে থাকতেন, কাড়াকাড়িতে অংশ নিতেন না। এই ছিল নবী করীম [দ.]-এঁর আদর্শ আচরণ। এ অবস্থা দেখে চাচা তাঁর নাস্তা পৃথক করে দিতেন। নবী করীম [দ.] যখন তাদের সাথে খানা খেতেন, তখন সকলেই তৃপ্ত হতেন। এটা ছিল নবী করীম [দ.]-এঁর কিশোরকালের বরকত।

যখন নবী করীম [দ.]-এঁর বয়স ১২/১৪ বৎসর- তখন তিনি পিতৃব্য আবু তালিবের সাথে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে বাণিজ্য কাফেলায় শরিক হওয়ার ইচ্ছে ব্যক্ত করলে খাজা আবু তালিব তাঁকে সফরসঙ্গী করে নেন। পথিমধ্যে বোছরা নামক স্থানে বোহায়রা নামক এক খৃষ্টান পাদ্রীর গির্জার নিকট দিয়ে বাণিজ্য কাফেলা গমনকালে উক্ত পাদ্রী কিছু আশ্চর্যজনক ঘটনা প্রত্যক্ষ করে এবং ওই কাফেলার সকলকে তাঁর গির্জায় দাওয়াত করেন। তাদের জন্য তিনি খানাও তৈরি করেন। সবাই উক্ত যিয়াফতে যোগদান করে। কিন্তু নবী করীম [দ.]-কে মাল সামানার পাহারায় রেখে যাওয়া হয়। বোহায়রা পাদ্রী রাসূলুল্লাহ [দ.]-কে উক্ত খানার মজলিসে শামিল করতে নির্দেশ দিলে হুযুরকে আনা হলো। উক্ত পাদ্রী নবী করীম (দ.)-এঁর আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে বললেন-”লাত ওজজার কসম নিয়ে আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করতে চাই - সঠিক উত্তর দেবেন।”

নবী করীম [দ.] প্রতিবাদ করে বললেন- লাত উজজার শপথ করে আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করবেন না। তখন বোহায়রা পাদ্রী আল্লাহর শপথ দিয়ে নবী করীম [দ.]-এঁর নিদ্রা, দৈনন্দিন কার্যাদি সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করেন। নবী করীম [দ.] নিজ অবস্থা বর্ণনা করেন। তখন বোহায়রা পাদ্রী নবী করীম [দ.]-এঁর হাত ধরে বলে উঠলেন,”ইনি সাইয়েদুল আলামীন, রাসুলু রাব্বিল আলামিন, রাহমাতুল্লিল আলামীন” (বায়হাকী)। (চলবে)

সূত্র : নূরনবী। লেখক : অধ্যক্ষ এমএ জলিল (র.)।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়