শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:৩১

দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত

চাঁদপুর-শরীয়তপুর মেঘনা সেতু নির্মাণে জাপানি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ

অনলাইন ডেস্ক
চাঁদপুর-শরীয়তপুর মেঘনা সেতু নির্মাণে জাপানি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ
ছবি :সংগৃহীত

চাঁদপুর-শরীয়তপুর সড়কে মেঘনা নদীর ওপর দীর্ঘপ্রতীক্ষিত সেতু নির্মাণ প্রকল্পে বিনিয়োগ ও বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানের খ্যাতনামা নির্মাণ প্রতিষ্ঠান 'মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেড'। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলের আওতায় এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। 'জাপান-বাংলাদেশ অষ্টম প্ল্যাটফর্ম মিটিং'-এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সেতু ভবনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জাপানি প্রতিনিধিদল এই আগ্রহের কথা জানায়।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাট এবং শরীয়তপুরের সখিপুরের মধ্যে মেঘনা নদীর ওপর নির্মিতব্য এই সংযোগ সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৮.০৪ কিলোমিটার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত নকশায় ক্যাবল-স্টেড প্রযুক্তির ৭০০ মিটার দীর্ঘ মূল স্প্যান এবং নৌযান চলাচলের সুবিধার্থে ৩০ মিটার ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০৩২ সালের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব ও সুবিধা :

দূরত্ব ও সময় সংক্ষেপ : সেতুটি চালু হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১১টি জেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও খুলনার মধ্যকার সড়ক দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার কমে আসবে।

রাজধানীর ওপর চাপ হ্রাস : ঢাকা হয়ে যাতায়াতকারী দীর্ঘপথের ভারী যানবাহনের বিকল্প পথ তৈরি হওয়ায় রাজধানী শহরের ওপর অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি : বর্তমানের ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ ফেরি ব্যবস্থার একটি স্থায়ী বিকল্প তৈরি হবে। সমীক্ষা অনুযায়ী, এই অবকাঠামো স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনার পাশাপাশি দেশের জিডিপিতে প্রায় ০.৭৬ শতাংশ পর্যন্ত ইতিবাচক অবদান রাখবে।

সেতু বিভাগের দিকনির্দেশনা

জাপানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক ও সেতু বিভাগের সচিব দেশের চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরেন। জাপানি বিনিয়োগকারীদের উন্নত প্রযুক্তি ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে তিনি জানান, দেশের বিদ্যমান আইন ও পিপিপি কাঠামোর নীতিমালা অনুসরন করেই এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। একইসঙ্গে, অর্থায়ন ও বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি উল্লেখ করে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য জাপানি প্রতিষ্ঠানটিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রস্তাব পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তথ্যসূত্র : দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়