প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ১১:০০
চোরেরা যখন সোলার স্কীমেও হাত বাড়ায়-

কচুয়ায় সোলার স্কীমের মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিতারা ইউনিয়নের বুধুণ্ডা মাঠে এ চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রকল্পের পরিচালক নবীর হোসেন জানান, রোববার রাতের কোনো এক সময় স্কীমের গেটের তালা ভেঙ্গে চোরচক্র স্কিমের প্রয়োজনীয় মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। চোরচক্র প্রজেক্টের গেট ভেঙ্গে পানি উত্তোলন ও ৩০টি প্যানেলের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সকল সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যায়। চোরচক্র প্যানেলের ওয়্যারিংয়ের তার, মাদার বোর্ড, মেইন সুইচ খুলে নিয়ে যায়। জানা গেছে, সোলার প্যানেলের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে গভীর নলকূপ দিয়ে নিচ থেকে পানি উত্তোলন করে বুধুণ্ডা মাঠের ২৫ জন কৃষক সেচ কাজ করে আসছিলেন। কৃষক সেলিম প্রধান জানান, এখন আমাদের ফসল চাষের উপযুক্ত সময়, তাই সেচের পানি আবশ্যক। শাহআলম জানান, শত্রুতামূলকভাবে প্রশিক্ষিত চোর চক্র প্যানেলের মালামাল চুরি করেছে। স্থানীয়রা ঘটনার সাথে জড়িত চোরদের গ্রেফতার ও সোলার প্রকল্পটি চালু করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। নবীর হোসেন জানান, আমি ৪ বছর পূর্বে আমার নিজের সম্পত্তিতে কৃষকদের কথা চিন্তা করে সোলার প্যানেল স্থাপন করে মোটর দিয়ে পানি উত্তোলন করে কৃষকদের ফসল ফলাতে পানি দিয়ে সহযোগিতা করে আসছি। প্রকল্পটি চালু করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল বলেন, কৃষকদের কথা চিন্তা করে সহসাই সোলার প্যানেলটি চালুর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একসময় টেলিফোনের তার চুরি হতো খুব। চোরেরা এসব তার চুরি করে ভাঙ্গারি দোকানে বিক্রি করে ভালোই দাম পেতো। ওয়্যারলেস ও ক্যাবল এবং সর্বশেষ ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলে গেলে টেলিফোনের তারের খুঁটির বিলুপ্তি ঘটে এবং তার চুরিও বন্ধ হয়। এখন চোরদের টার্গেট হচ্ছে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে গ্রাহকদের স্থাপনায় সংযোগ প্রদানকারী তার, এসির আউটডোরের তার ও পাইপসহ অন্যান্য মূল্যবান সরঞ্জাম। এগুলোও ভাঙ্গারির দোকানে ভালো দামে বিক্রি করে চোরেরা। এ বিষয়টি পুলিশ ভালো করেই জানে। অথচ ভাঙ্গারি দোকানে কোনো অভিযান চালানো হয় না। বিদ্যুতের তার ও সরঞ্জাম চোর মাঝেমধ্যে ধরা পড়লেও জামিনে এসে একই কাজ করে। এরা এখন সোলার স্কীমেও তারসহ নানা সরঞ্জাম চুরিতে সিদ্ধহস্ত হয়ে গেছে। যার নমুনা কচুয়ায় দেখা গেলো। সেজন্যে এমন চোরদের কঠোরভাবে পাকড়াও করাটা অতি আবশ্যক হয়ে গেছে। কচুয়া থানা পুলিশ এ চোরদের ধরার ব্যাপারে সর্বাত্মক তৎপরতা চালাতে হবে। অন্যথায় চুরির শিকার সোলার স্কীম মেরামত করে চালু করা হলে আবার সেখানে একই চোরেরা চুরি করবে। চোর ধরতে পুলিশের ব্যর্থতায় সোলার স্কীম ব্যবহারকারীদের বসাতে হবে কড়া পাহারা। সেটা কতোটুকু বাস্তবসম্মত হবে সেটা নিয়ে ভাববার অবকাশ রয়েছে।








