প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৪
খোশ আমদেদ মাহে রমাদ্বান
শুধু উপবাসের নাম রোজা নয়

সহীহ বোখারী শরীফে বর্ণিত একখানা হাদীসের অংশবিশেষ হচ্ছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ পরিত্যাগ করে না, আল্লাহর কাছে তার পানাহার ত্যাগের কোনো প্রয়োজন নেই’। এই হাদীসে পাকে প্রকৃত রোজার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। রোজা কেবল ক্ষুধা, তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, নৈতিক পরিশুদ্ধতা ও চরিত্রে গঠনের এক মহৎ প্রশিক্ষণ। এই হাদীসের সাথে কোরআনের আয়াতের চমৎকার সামঞ্জস্য রয়েছে। রোজার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোরআনে পাকে বলা হয়েছে-‘যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো’। রোজা পালনের উদ্দেশ্য হচ্ছে- এই সিয়াম সাধনার মাধ্যমে একজন মুমিন যেনো মুত্তাকী হয়। আর মুত্তাকী তথা তাকওয়া অর্জন হচ্ছে- জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্য, ন্যায় ও নৈতিকতার চর্চা করা। রোজা রাখলাম কিন্তু জিহ্বাকে সংযত করলাম না, মিথ্যা বলা, গীবত, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, কালোবাজারি, মজুদদারি, মানুষকে ঠকানো ইত্যাদি গর্হিত কাজ সবই করলাম ; এমন রোজা উপবাস থাকা ছাড়া আর কিছুই নয়। এমন রোজার ফলাফল শূন্য। প্রতিবছর রমজান আসে রমজান যায়। কিন্তু আমাদের নৈতিক চরিত্রের কোনো পরিবর্তন ঘটে না, সমাজও পরিবর্তন হয় না। কারণ আমরা প্রকৃত রোজা বা সিয়াম সাধনা পালন করি না। তাই আমরা যেনো উল্লেখিত হাদীস এবং কোরআনের নির্দেশনা মতে রোজা পালন করি।




