প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০১:৩০
শহীদ জিয়ার স্বপ্ন পূরণে নতুন ইতিহাস: চাঁদপুরে তারেক রহমান কর্তৃক 'বিশ্ব খাল' পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা ঐতিহাসিক খাল খনন বিপ্লবের অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণে এক নতুন ইতিহাস গড়লেন তাঁরই সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৬ মে ২০২৬) এক যুগান্তকারী ও রাষ্ট্রীয় সফরে চাঁদপুর সদর উপজেলার ঘোষেরহাটে বহুল প্রতীক্ষিত এবং ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ 'বিশ্ব খাল' পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি। এর মাধ্যমে চাঁদপুরের কৃষি, পরিবেশ ও মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে এক নতুন যুগের সূচনা হলো, যা শহীদ জিয়ার সেই ঐতিহাসিক উৎপাদনমুখী রাজনীতির কথাই মনে করিয়ে দেয়।
|আরো খবর
- স্মৃতির খোর্দ্দ খাল থেকে ঘোষেরহাটের ‘বিশ্ব খাল’: উৎপাদনমুখী রাজনীতির পুনর্জাগরণ ও চাঁদপুরের টেকসই অর্থনীতির নতুন দিগন্ত!
- বিশ্ব খালের পুনঃখননশেষে ঘোষের হাটের জনসমুদ্রে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন বার্তা, উৎসবে মুখর পুরো এলাকা
- ঢাকায় বড়ো বড়ো ফ্লাই ওভার নির্মিত হলেও গ্রামাঞ্চলের প্রকৃত উন্নয়ন হয় নি ---প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ : নিম গাছের চারা রোপণ
খাল খননের ফলক উন্মোচন পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এই প্রত্যয়কে ধারণ করে তিনি নিজ হাতে বিশ্ব খালের পাড়ে একটি ওষুধি গুণসম্পন্ন নিম গাছের চারা রোপণ করেন। বৃক্ষরোপণ শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সুধীজন ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন,
"শুধু জলাশয় সংস্কার করলেই চলবে না, আমাদের প্রকৃতির বৈচিত্র্য ও সবুজ বলয়কেও টিকিয়ে রাখতে হবে। নিম গাছ আমাদের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা দেয়। এই ঐতিহাসিক খালের দুই পাড় সবুজায়নে ভরে উঠুক, এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"
চাঁদপুরের প্রাণভোমরা 'বিশ্ব খাল' : গুরুত্ব ও প্রত্যাশা
উল্লেখ্য, ঘোষেরহাটের এই বিশ্ব খালটি চাঁদপুর সদরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাণভোমরা জলপথ। দীর্ঘদিন সংস্কার ও ড্রেজিংয়ের অভাবে পলি জমে এটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিলো, যার ফলে বর্ষায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে ভুগছিলেন স্থানীয় হাজার হাজার কৃষক। জিয়ার সেই অসমাপ্ত অর্থনৈতিক বিপ্লবকে পূর্ণতা দিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি উদ্যোগ চাঁদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করলো।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই পুনঃখনন সম্পন্ন হলে স্থানীয় অঞ্চলে নানামুখী ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। যেমন :
জলাবদ্ধতা চিরতরে নিরসন, বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের পথ সুগম হবে।
নির্বিঘ্ন সেচ সুবিধা : শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা ফসলি জমিতে সহজে পানি সেচ দিতে পারবেন।
মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন : মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
জনসমুদ্রে রূপ নিলো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরকারের উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং চাঁদপুর জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ঐতিহাসিক এই ক্ষণটি উদযাপনে ঘোষেরহাট ও আশেপাশের এলাকায় জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত লাখো জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং জনতাও করতালি ও স্লোগানে মুখরিত করে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








