প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:১১
৭ দিনের মধ্যে ভরাট অংশ খনন করে বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ
পুকুর ভরাট করে খামারের বর্জ্য ফেলায় লাখ টাকা জরিমানা

চাঁদপুর শহরের উত্তর-পশ্চিম বিষ্ণুদী এলাকায় পুকুরের অংশবিশেষ ভরাট করে গরুর খামারের বর্জ্য ফেলার দায়ে মো. শাহাদাত হোসেন গাজী (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ভরাট করা অংশ খনন করে বর্জ্য পরিবেশসম্মতভাবে অপসারণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য তাকে ৭ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) চাঁদপুর জেলা সদরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর-পশ্চিম বিষ্ণুদী এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(ঙ) ধারা লঙ্ঘন করে পুকুরের একটি অংশ ভরাট করে সেখানে গরুর খামারের বর্জ্য ফেলা হচ্ছিল। বিষয়টি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভরাটকৃত অংশ খনন করে বর্জ্য পরিবেশসম্মতভাবে ব্যবস্থাপনার নির্দেশ দেওয়া হয়।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হুদা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুরের পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়া। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চাঁদপুর জেলা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।
পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তরের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
**জলাশয় রক্ষা মানেই পরিবেশ রক্ষা**
চাঁদপুরের মতো নদী-খাল-পুকুরবেষ্টিত জনপদে জলাশয় শুধু পানি ধারণের স্থান নয়; বরং এগুলো স্থানীয় জীববৈচিত্র্য, জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে পুকুর ভরাট ও খামারের বর্জ্য ফেলার কারণে জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব, পানিদূষণ এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গবাদিপশুর খামারের বর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জৈবসার ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। কিন্তু তা পুকুর, খাল বা জলাশয়ে ফেলা হলে পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণী ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে।
তাই শুধু জরিমানা নয়, জলাশয় দখল ও ভরাটের প্রবণতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জরুরি। নিজেদের বসতবাড়ি ও খামারের আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পুকুর, খাল ও অন্যান্য জলাশয় রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। চাঁদপুরের প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।







