প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫২
চার দশক পর মেঘনার তীরে সংস্কৃতির নতুন সূর্যোদয়
হাইমচর শিল্পকলা একাডেমির শুভ উদ্বোধন

উত্তাল মেঘনার ভাঙন-গড়ার চিরন্তন লড়াইকে জয় করে চার দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। অবশেষে নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক ঠিকানা পেলো চাঁদপুরের নদীমাতৃক জনপদ হাইমচর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও স্থায়ী ঠিকানার অভাব দূর করে মেঘনাপাড়ের এই জনপদে সাংস্কৃতিক চর্চার নতুন এক সূর্যোদয় ঘটলো।
|আরো খবর
বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) হাইমচর উপজেলা পরিষদের চতুর্থ তলায় এক বর্ণিল ও উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিটির শুভ উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন।
উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাংস্কৃতিক পর্বে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের শতবর্ষ স্মরণে স্থানীয় খুদে শিল্পীরা মনোমুগ্ধকর নজরুল সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন। তাদের পরিবেশনা উপস্থিত সুধীজন ও দর্শকদের বিমোহিত করে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৭৬ সালে থানা এবং ১৯৮৪ সালে হাইমচর পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় উন্নীত হয়। এরপর দীর্ঘ চার দশক কেটে গেলেও নানা প্রতিকূলতা এবং স্থায়ী ভবনের অভাবে এতোদিন এখানে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। তবে সুযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা না থাকলেও এখানকার নিবেদিতপ্রাণ শিল্পীরা নিজেদের সাধনা ও প্রতিভায় জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে অজস্র সম্মাননা বয়ে এনেছেন। অবশেষে নিজেদের একটি ঠিকানা পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সমাজে সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে সংস্কৃতি চর্চার কোনো বিকল্প নেই। হাইমচরের এই শিল্পকলা একাডেমি কেবল একটি ইট-পাথরের ভবন নয়, এটি এখানকার তরুণ প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করে জাতীয় ও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমিত রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রাণী চাকমা। আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
নদীমাতৃক হাইমচরের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের বিশ্বাস, মেঘনাপাড়ের এই নবযাত্রা কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা নয়; বরং এটি অন্ধকার দূর করে সুস্থ সমাজ গঠন এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশের এক অবিরাম আলোকবর্তিকা হয়ে জ্বলবে।








