সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০০:৪৫

চাঁদপুর বড় স্টেশনে ইলিশের স্বাদে পর্যটকদের ভিড়

‘দ্বীন ইসলামের মেজবানখানা’ এখন রসনাবিলাসীদের অন্যতম গন্তব্য

আব্দুল্লাহ আল মামুন
‘দ্বীন ইসলামের মেজবানখানা’ এখন রসনাবিলাসীদের অন্যতম গন্তব্য
চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছ ঘাটের দ্বীন ইসলামের মেজবানখানায় প্রতিদিন দেড় মণ ইলিশ মাছ ভাজা হয়।

পদ্মা-মেঘনার মোহনায় অবস্থিত চাঁদপুরের বড় স্টেশন মাছঘাট দীর্ঘদিন ধরেই তাজা ইলিশের জন্যে দেশের মানুষের কাছে পরিচিত। তবে এখন শুধু ইলিশ কেনাই নয়, গরম গরম ভাজা ইলিশের স্বাদ নিতে প্রতিদিন শত শত মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে বড় স্টেশন এলাকা। এখানেই গড়ে উঠেছে ‘মেজবানখানা’ নামে একটি ব্যতিক্রমী খাবারের আয়োজন, যার উদ্যোক্তা দ্বীন ইসলাম।

এখনও স্থায়ী সাইনবোর্ড না লাগানো হলেও স্থানীয়দের কাছে ‘মেজবানখানা’ ইতোমধ্যেই বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে।

উদ্যোক্তা দ্বীন ইসলাম জানান, প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত হোটেলটি খোলা থাকে। দৈনিক গড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ অতিথি এখানে ইলিশ ভাজা খেতে আসেন। বিশেষ করে শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়।

দ্বীন ইসলাম জানান, প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কেজি তাজা মেঘনার ইলিশ ভাজা হয়। অনেক ক্রেতা বড় স্টেশন মাছঘাট থেকে নিজের পছন্দের ইলিশ কিনে এনে এখানেই ভেজে খেয়ে যান। মাছ ভাজার জন্যে মাছের আকার ও মান অনুযায়ী দেড়শ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০, ৪০০ এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতি পিস ৫০০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেয়া হয়।

হোটেলটির বসার ব্যবস্থা বেশ পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক। একসঙ্গে প্রায় ৭০ জন অতিথি বসে খাবার খেতে পারেন। ভাজা ইলিশের সঙ্গে পরিবেশন করা হয় শুকনা মরিচ ভাজা, ডাল, ভাজা পেঁয়াজসহ ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের আয়োজন। অধিকাংশ ইলিশেই ডিম থাকায় অতিথিদের আগ্রহও থাকে বেশি।

শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) সরকারি ছুটির দিনে ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে আসা পর্যটকদের ভিড় ছিলো বড় স্টেশন এলাকায়

হাজীগঞ্জের সন্তান, বর্তমানে ঢাকায় বসবাসকারী ঠিকাদার ব্যবসায়ী শরীফ খন্দকার জানান, তিনি ১০জন বন্ধুকে নিয়ে শুধুমাত্র চাঁদপুরের তাজা ইলিশের স্বাদ নিতে এসেছেন। তারা বড় স্টেশন মাছঘাট থেকে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে এক কেজির বেশি ওজনের দুটি ইলিশ কিনেছেন এবং ‘মেজবানখানা’য় ভেজে খাচ্ছেন।

শরীফ খন্দকার বলেন, চাঁদপুরের মেঘনার ইলিশের স্বাদ অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তাই বন্ধুদের নিয়ে বিশেষভাবে এখানে এসেছি। নদীর মনোরম পরিবেশ আর গরম গরম ইলিশ ভাজা—দুটোর সমন্বয় সত্যিই অসাধারণ। তার সঙ্গে আসা বন্ধুদের মধ্যে কেউ ব্যাংক কর্মকর্তা, কেউ ব্যবসায়ী। ব্যস্ত কর্মজীবনের ফাঁকে এমন একটি আনন্দঘন ভ্রমণ তাদের কাছে হয়ে উঠেছে স্মরণীয়।

স্থানীয়দের মতে, চাঁদপুর বড় স্টেশন এখন শুধু ইলিশ কেনাবেচার বাজার নয়; এটি ধীরে ধীরে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্য ও পর্যটন স্পটে পরিণত হচ্ছে। নদীর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ, তাজা ইলিশ কেনা এবং ধোঁয়া ওঠা ভাজা ইলিশের স্বাদ—সব মিলিয়ে বড় স্টেশন আজ রসনাবিলাসী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের নির্মল আনন্দের এক অনন্য ঠিকানা।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়