শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:১৩

হাইমচরে ইসলামী ব্যাংক পিএলসির এজেন্ট ব্যাংকের নিরীহ ডিপিএস গ্রাহকদের পক্ষে আমরা চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সংবাদ সম্মেলন

তথ্য জালিয়াতি করে ঋণ প্রদান করে ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও আইনি হয়রানির প্রতিবাদ

চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
তথ্য জালিয়াতি করে ঋণ প্রদান করে ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও আইনি হয়রানির প্রতিবাদ
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ।

হাইমচরে নিরীহ ডিপিএস গ্রাহকদের তথ্য জালিয়াতিপূর্বক প্রতারণামূলক ঋণ প্রদান, অর্থ আত্মসাৎ ও আইনি হয়রানির প্রতিবাদে শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) মধ্যাহ্নে চাঁদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে আমরা চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নামক একটি সংগঠন। এ সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ। এ ছাড়া তাঁর স্বাক্ষরিত একটি লিখিত নোটও প্রদান করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। এ নোটে লিখা হয়,

হাইমচর উপজেলার দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নাধীন চরভাঙ্গা গ্রামের জনৈক তাজুল ইসলাম কবিরাজ (বয়স ৪০), পিতা-মো. কাদির কবিরাজ, তাজুল ইসলাম কবিরাজ-এর শ্যালিকা আছমা আক্তার (৩০), পিতা- হানিফা কবিরাজ ও ভাই মো. আলাউদ্দিন কবিরাজ (৩৫) তাদের মালিকানায় ও তত্ত্বাবধানে ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর একটি এজেন্ট ব্যাংক, হাইমচর বাজার শাখা পরিচালনা করেন। এ এজেন্ট ব্যাংক শাখায় উল্লেখিত তাজুল ইসলাম কবিরাজ ডিপিএস হিসাব (একাউন্ট) খোলার জন্যে হাইমচর উপজেলার বাসিন্দা ১. বারেক সরকার, ২. শাহজালাল সরকার, ৩. মো. ইদিছ আলী, ৪. মো. আলমগীর সরকার, ৫. সোহেল রানা, ৬. আয়েশা আক্তার, ৭. শিরিনা বেগম, ৮. মো. ওয়ালী উল্লাহ, ৯. আমান উল্লাহ সর্দার, ১০. মো. কাদির সরদার এবং ১১. মো. নাছির মিয়া সহ আরো প্রায় ৪০ জন ব্যক্তিকে উদ্বুদ্ধ করে এবং তাদের নিকট হতে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও বিভিন্ন ব্যাংক ফরমে টিপসহি ও দস্তখত নেয়। উপরোল্লিখিত ১১ জন সহ অন্যান্য (৪০ জন) ব্যক্তির ইসলামী ব্যাংকের, হাইমচর বাজার শাখার এজেন্ট ব্যাংকের সাথে ডিপিএস হিসাব ব্যতীত অন্য কোনো লেনদেন বা যোগাযোগ ছিলো না।

উদ্বেগজনক বিষয় এই যে, ডিপিএস হিসাব খোলার জন্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য ও টিপসহি বা স্বাক্ষরের নমুনা তাজুল ইসলাম কবিরাজের বেআইনি জিম্মায় থাকার ফলে এবং ইসলামী ব্যাংকের হাইমচর বাজার এজেন্ট ব্যাংক শাখার মালিকানা উক্ত তাজুল ইসলাম কবিরাজ গংয়ের মালিকানাধীন তথা নিয়ন্ত্রণাধীন থাকার ফলে তাজুল ইসলাম কবিরাজ, তার স্ত্রী আছমা আক্তার (৩০), ভাই মো. আলাউদ্দিন কবিরাজ ও ইসলামী ব্যাংক চাঁদপুর শাখার ম্যানেজার পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ফর্ম ও কাগজাদি সৃজনপূর্বক উক্ত এজেন্ট ব্যাংক হতে উপরোল্লিখিত ১১ জন ব্যক্তি সহ আরও প্রায় ৪০ জনের নামে একাউন্ট বা হিসাব খোলেন, চেকবই ইস্যু করেন এবং তৎপরবর্তীতে ঋণ ইস্যু করেন ও উক্ত লোন বা ঋণের অর্থ ব্যক্তিগতভাবে

গ্রহণপূর্বক সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করার মাধ্যমে জঘন্য ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত করেন।

তাজুল ইসলাম কবিরাজ, তার শ্যালিকা আছমা আক্তার (৩০), ভাই মো. আলাউদ্দিন কবিরাজ ও ইসলামী ব্যাংক চাঁদপুর শাখার ম্যানেজার গংয়ের এহেন জালিয়াতি, প্রতারণা ও অপরাধের বিষয়ে ঋণ ইস্যু ও আত্মসাৎ করণ, চেক বই ইস্যু করণ, কাগজাদি সৃজনকরণ এবং টিপসহি ও দস্তখত জালিয়াতির বিষয়ে উক্ত ভুক্তভোগীদের বিন্দুমাত্র ধারণা বা তথ্য ছিলোনা। পরবর্তীতে উক্ত ঋণ সমূহ পরিশোধিত না হওয়ার ফলে ইসলামী ব্যাংক উক্ত ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আমলি আদালত উক্ত মামলাসমূহে উক্ত ভুক্তভোগীদের দোষী সাব্যস্ত করে চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। ফলস্বরূপ উক্ত ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি হলে উক্ত ভুক্তভোগীগণ এই ঘটনা জানতে পারেন। এর মধ্যে অনেকেই গ্রেপ্তার হন ও অমানবিক কারাবাস করেন। এমতাবস্থায় ভুক্তভোগীগণ নিরূপায় হয়ে নিজস্ব ও পারিবারিক অর্থায়নে ঋণের ৫০% সমতুল্য অর্থ আইন অনুযায়ী আদালতে জমা প্রদান করে জামিনে মুক্তি পান।

উল্লেখ্য যে, উপরোল্লিখিত মামলাসমূহ ও মামলার চলমান কার্যধারার বিষয়েও উক্ত ভুক্তভোগীগণ কোনো কিছু জানতেন না। তাজুল ইসলাম কবিরাজ, তার শ্যালিকা আছমা আক্তার (৩০), ভাই মো. আলাউদ্দিন কবিরাজ, ও ইসলামী ব্যাংক চাঁদপুর শাখার ম্যানেজার গং আদালতে ভুয়া ব্যক্তিবর্গ কে আসামিরূপে উপস্থাপন করে উক্ত মামলার কার্যধারা পরিচালনা করেন, সাক্ষী প্রদান করেন এবং চূড়ান্ত রায় পর্যন্ত মামলা পরিচালনা করে সমাপ্ত করান। এর মাধ্যমে তারা বিজ্ঞ আদালতের সাথেও প্রতারণা ও জালিয়াতি করেন।

অপরিশোধিত ঋণের প্রেক্ষিতে চেকের মামলা করতে হলে প্রথমে বিবাদী বরাবর আইনি নোটিশ দিতে হয়, যা বাধ্যতামূলক। বর্ণিত ভুক্তভোগীরা কেউই কোনো আইনি নোটিশ পান নি। বাদীকে প্রতিদানের (কন্সিডারেশন) বিনিময়ে কোনো চেকের অধিকারী হতে হবে। এই ক্ষেত্রে কোনো প্রতিদান (কন্সিডারেশন) ছিলো না, যেহেতু ঋণের টাকা ভুক্তভুগীগণ গ্রহণ করেন নি। বাদী (ইসলামী ব্যাংক) চেকের সমমূল্যের যে স্বত্ব বিবাদীর নিকট হতে অর্জন করেছেন বলে দাবি করে মামলা দায়ের করেছেন, তার (বাদীর) সেই স্বত্ব অর্জন কোনো ধরনের ত্রুটিপূর্ণ হতে পারবে না। এই ক্ষেত্রে বাদীর স্বত্ব অর্জন সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ, অর্থাৎ জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিলো। সুতরাং এন আই (নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট) আইনের অধীনে যে মামলাগুলো ইসলামী ব্যাংক দায়ের করেছে, সেই মামলা সমূহ আইনত চলতে পারে না। আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না, কীভাবে বিজ্ঞ আদালতকে ফাঁকি দিয়ে, প্রতারণার মাধ্যমে এই মামলাগুলো করা হলো এবং মামলার রায় পর্যন্ত চলমান রাখলো, কিন্তু বিজ্ঞ আদালত কোনো টের পেলেন না। ইসলামী ব্যাংক এর সাথে সম্পূর্ণভাবে জড়িত এবং ইসলামী ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার এবং কর্মকর্তা কোনো ভাবেই দায় এড়াতে পারে না। আরো উল্লেখ্য যে, উক্ত তাজুল ইসলাম কবিরাজ ইসলামী ব্যাংক, ফরিদগঞ্জ শাখা হতেও ভুক্তভোগীদের নামে জালিয়াতিপূর্বক প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ ইস্যু করে আত্মসাৎ করে। সুতরাং বর্ণিত অবস্থায় অত্র প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে এবং আপনাদের সাহায্যে আমরা ১. বাংলাদেশ ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসন, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক, সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ, চাঁদপুর-এর নিকট আহ্বান জানাচ্ছি যে, বর্ণিত বিষয়ে অতিসত্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন, দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করবেন এবং তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শান্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন। ২. ইসলামী ব্যাংকের হাইমচর বাজার শাখা এজেন্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে যথাযথ শান্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন। ৩. ইসলামী ব্যাংক অতিসত্বর ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরত প্রদান ও ক্ষতিপূরণ প্রদান করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন মঞ্জুরুল হক, নাঈম সরকার,

ভুক্তভোগীদের পক্ষে অ্যাড. মাসুদ রানা, ভুক্তভোগী শাহজালাল সরকার, মো. সোহেল রানা প্রমুখ।

সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে ভুক্তভোগীরা আত্মসাৎকৃত ঋণের পরিমাণ প্রায় দু কোটি টাকা বলে দাবি করেন। তাজুল ইসলাম কবিরাজ গং ২০২২ সাল থেকে ঋণের নামে টাকা আত্মসাতের প্রক্রিয়া শুরু করেন এবং তখনকার সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তীতে পালিয়ে থাকলেও বর্তমান প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের আশ্রয়েপ্রশ্রয়ে পার পেয়ে যাবার চেষ্টা করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে বক্তাগণ দাবি করেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়