বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:২৫

চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভায় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার

লিগ্যাল এইড কার্যক্রম আট উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে

চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট।।
লিগ্যাল এইড কার্যক্রম আট উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে
চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির ডিসেম্বর-২০২৫-এর মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা সিনিয়র বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার।

চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টায় চাঁদপুর জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সভাপতি সামছুন্নাহার।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আমরা মূলত তিনটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। এগুলো হলো আইনগত পরামর্শ, মিডিয়েশন এবং আইনগত সহায়তা। মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের জন্যে সামান্য কিছু খরচ গ্রহণ করা হয়, যা সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াগত ব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে লিগ্যাল এইড কমিটি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুযায়ী প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে আগের মতো স্থানীয় কোনো প্রতিনিধি না থাকায় এবার পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনের পাশাপাশি অনলাইন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে। একই সঙ্গে মোবাইল ম্যাসেজের মাধ্যমেও গণভোটের প্রচার ও জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সভায় জানানো হয়, সাধারণ মানুষের জন্যে লিগ্যাল এইড সেবাকে আরও সহজলভ্য করতে লিগ্যাল এইড হেল্পলাইন নম্বর ০১৭০১২৬৭৩৮১ চালু রাখা হয়েছে। এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে তথ্যগত সেবা গ্রহণের জন্যে নির্দিষ্ট নম্বর ০১৩৩৫-১৪৫০২৭-এ কল করে সাধারণ জনগণ লিগ্যাল এইডের সহায়তা নিতে পারবেন।

বিজ্ঞ জেলা জজ সামছুন্নাহার বলেন, লিগ্যাল এইড কার্যক্রমকে জেলার ৮টি উপজেলায় আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের মাধ্যমে যদি মামলার সংখ্যা কিছুটা হলেও কমে, তাতেই আমরা নিজেদের সার্থক মনে করি। লিগ্যাল এইড ও গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের ফলে অনেক মামলা সহজেই নিষ্পত্তি হচ্ছে এবং আদালতের মামলার জট উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। তবে জেলখানা থেকে আগত মামলার পক্ষদের ক্ষেত্রে কিছুটা বিড়ম্বনার কথা উল্লেখ করে কমিটির সদস্যরা বলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে আসার কারণে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না।

সভায় ডিসেম্বর-২০২৫ মাসের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। এতে জানানো হয়, ওই মাসে জেলায় মোট ৪৫ জনকে আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মামলা দায়ের করা হয়েছে ৬টি, নিষ্পত্তি হয়েছে ১০টি। এডিআর (আবেদন) দায়ের করা হয়েছে ২৩টি, এর মধ্যে সফল ১৫টি এবং বিফল ২৪টিসহ মোট ৩৯টি। এডিআরের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে ৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এছাড়া পক্ষদের অনুপস্থিতির কারণে ২০টি এডিআর বিফল হয়েছে এবং আপস না হওয়ায় ৪টি বিফল হয়েছে। মোট বিফল এডিআরের সংখ্যা ২৪টি।

সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, অ্যাডভোকেট বিনয় ভূষণ মজুমদার, স্থানীয় সরকার বিভাগের গ্রাম আদালত চাঁদপুর জেলা ম্যানেজার মমতাজ বেগম এবং চাঁদপুর লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট চৌধুরী ইয়াছিন ইকরাম।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী তাঁর বক্তব্যে বলেন, তাঁর দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা ও সম্পাদকীয় অভিজ্ঞতায় তিনি লক্ষ্য করেছেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ এখনো জানেন না লিগ্যাল এইড কমিটির সেবা কীভাবে পেতে হয়। অনেকেই লিগ্যাল এইড অফিসের অবস্থান সম্পর্কেও অবগত নন। সেজন্যে লিগ্যাল এইড কার্যক্রম সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এ সময় তিনি চাঁদপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা জজ ও জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সভাপতি সামছুন্নাহারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাদিরা নূর, অ্যাডভোকেট নূরুল হক, জেলা কারাগারের সুপার মো. জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আশিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সভা পরিচালনা করেন চীফ জুডিশিয়াল আদালতের সিনিয়র জজ ও লিগ্যাল এইড অফিসার মো. আবদুল আলীম।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়